Skip to content

কখনও জব কখনও ক্রিয়েশন


গতকালকে ভাসমান সব্জিচাষের উপর ছোট একটা ইন্টারভিউ দিলাম। যিনি অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করছেন, তিনি কোনো কারণে আসতে পারেননি। তবে, টিভি চ্যানেল থেকে ক্যামেরাসমেত প্রায় ৫-৬ জনের একটা টিম ইন্টারভিউ রেকর্ড করতে এসেছেন। উনারা বিনয়ের সাথে জানালেন যে আমার জন্য বরাদ্দকৃত সময় খুব কম, মাত্র আট মিনিট। আমি এমনিতেই কথা বলি ঝড়ের গতিতে, দাড়ি-কমা-বিহীনভাবে। তার উপর কৃষিবিদ্যায় আমার যে দৌড়, তাতে আমার জানা সবটুকু বলতেও মিনিট পাঁচেকের বেশি লাগার কথা না।

বাস্তবেও তাই হলো। ঠিক চার মিনিটের মাথায় আমার পুরো বর্ণনা শেষ। এক শটে 'ওকে'! কিন্তু চিত্রধারণকারিরা নাখোশ। ঘড়ি দেখে জানালেন আমাকে আরো চার মিনিট কথা বলতে হবে। আমার তো ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! দ্রুত বিকল্প উপায় খুঁজতে থাকলাম। গরু নিয়ে ফেললাম সোজা নদীতে! ভাসমান সব্জি চাষের উপকারিতা, নারীদের সম্পৃত্ততা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ক্ষমতায়ন, শিশুর পুষ্টি - আমাকে আর পায় কে? যেন জগতের সব সমস্যার সমাধান কেবল সব্জিতেই নিহিত!

পুরো টিম খুব দক্ষ এবং দ্রুত হাতে কাজ গুছিয়ে ক্যামেরা-লাইট-রেকর্ড শেষ করলেন। তারপরে আমি স্বভাবসুলভভাবে তাদের চা খেতে বললাম। তারা সাগ্রহে চা খেতে বসলেন, বুঝলাম এই মূহুর্তে চা-টা তাদের খুব দরকার ছিল।

চা খেতে খেতে আমি তাদের সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছি - তাদের রুটিন, কাজের ধরন, ভাললাগা-মন্দলাগা। কথার ফাঁকে জানলাম যিনি আমাকে ক্যামেরাবন্দী করলেন, তার পছন্দের কাজ চলচ্চিত্রে। বললেন, তানভীর মোকাম্মেলের সাথে করা তার প্রিয় কাজগুলো। এক পর্যায়ে জানালেন তিনি হুমায়ূন আহমেদের সাথেও কাজ করতেন। যত শুনছি, ততই সংকুচিত হচ্ছি। যিনি ক্যামেরার এত সূক্ষ্ম কাজ করেন তাকে একটু আগে আমার যেরকম 'ভাতেমরা' গোছের দৃশ্য ধারণ করতে হলো, তা' নিতান্তই লজ্জ্বাজনক। যা হোক, জানতে চাইলাম - আজকের মতো এ ধরনের স্টেরিওটাইপ কাজ করতে কেমন লাগে? অকপটে বললেন, এগুলো আমার 'জব' আর এতক্ষণ আপনাকে যেগুলোর কথা বললাম সেগুলো আমার 'ক্রিয়েশন'! কথাটার ভেতর এত গভীরতা ছিল যে আমি অভিভূতের মতো শুনছি। ঠিক এই সময়ে তার সহকর্মীদের ডাকে উনাকে উঠে যেতে হলো। উনি যখন বিদায় নিয়ে ঘর থেকে বেরুচ্ছেন, সে সময়ে আস্তে করে বললাম, তানভীর মোকাম্মেল ভাই আমার কাজিন। এর পরে উনার সাথে দেখা হলে আমার ডাকনাম '---' বলবেন, অনেক বছর দেখা না হলেও আশা করি আমাকে চিনবেন। এবার উনার অবাক হবার পালা। পৃথিবীটা আসলেও খুব ছোট!

উনি চলে যাবার পরে সারাদিন আমার মাথায় কেবল একটা বিষয় ঘুরছে: 'জব' এবং 'ক্রিয়েশন'। আমার অনেক দিনের অজানা প্রশ্নের উত্তর যে এত সহজে পেয়ে যাবো, সেটা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। সারাদিনের কাজের চাপে আমাদের জবটাই করা হয়, ক্রিয়েশনের অবকাশ কোথায়!

8 comments

  1. shoeb amran

    Apa,
    Excellent writing!
    1. হাসিন জাহান Author

      Thanks a lot!
    2. হাসিন জাহান Author

      Thanks!
  2. Farzana

    Nice apa...
    1. হাসিন জাহান Author

      Thank you :-)
    2. হাসিন জাহান Author

      Thank you!
  3. এস আই টি - কক্সবাজার

    Awesome writing !
    Lot's of people can learn more effective things from your blog.
    1. হাসিন জাহান Author

      Thanks a lot!

Leave a comment

Replying to

Your email is never published. Comments appear after approval.

You may also like

All writing

সফলতার অন্তরালে

Life, as it comes

সফলতার অন্তরালে

অনেকে আমার জীবনকে মোটামুটি সফল বলে ভুল করেন। অনেকেই আবার আমার এই আপাতসাফল্যের রহস্য অথবা এর পেছনের মানুষদের কথা জানতে চান। আমার আজকের লেখা আমার সফলতা বা বিফলতা নিয়ে না, বরং যেসব মানুষ আমার জীবনে নিঃশ...

Hasin Jahan 3 min

বয়স হওয়ার এগারোটি লক্ষণ

Life, as it comes

বয়স হওয়ার এগারোটি লক্ষণ

বয়স নিয়ে আলোচনা করা, বয়স্করা পছন্দ করেন না। কিন্তু কী আর করা! প্রায়ই আমাকে এ নিয়ে নানারকম বিপত্তি পোহাতে হয়। আমি যতই নিজেকে বয়সে তরুণ বলে মনে করি না কেন, চারপাশের মানুষজন আমাকে আমার বয়স মনে কর...

Hasin Jahan 4 min

ছেলেদের জীবনের বিড়ম্বনা

Life, as it comes

ছেলেদের জীবনের বিড়ম্বনা

অনেকদিন ধরেই আমার একটা লেখা পেন্ডিং ছিল। পাবলিক ডিমান্ড-এর কারণে এবারে আমার সেই লেখা - ছেলেদের জীবনের নানা বিড়ম্বনা নিয়ে। অনেকে বলেন, আমি মেয়েদেরকে নিয়ে বেশি লিখি। তাই তাদের দাবি, ছেলেদের কি অন্তর...

Hasin Jahan 3 min